জাতীয়

রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাচ্ছিল গরুর মাংস, কড়াই নিয়ে গেলেন থানায়

খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

M
Md Ashikবুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ এ ০৫:১২ PM
১৫ বার পঠিত
রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাচ্ছিল গরুর মাংস, কড়াই নিয়ে গেলেন থানায়

খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা মাংস রান্না করতে গিয়ে এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখতে পান। পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী একসঙ্গে ভোজের আয়োজন করেছিলেন। এদিন সকালে বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেনসহ তিনজন পাইকগাছা বাজারের মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের দোকান থেকে মাংস কেনেন। সেদিন সকালে জবাই করা গরুর সব মাংস বিক্রি হয়ে যাওয়ায় বিক্রেতা তাদের আগের দিনের ফ্রিজে সংরক্ষিত চার কেজি মাংস দেন।

বেকারির কর্মচারীদের ভাষ্যমতে, তেল-মসলা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পরই মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে শুরু করে এবং নাড়াচাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রং আরও গাঢ় হতে থাকে। বিষয়টি দেখে তারা চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতার দোকানে যান, সেখানে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়ে পরে ইউএনও কার্যালয়ে এবং সেখান থেকে পরামর্শক্রমে থানায় যান। পরবর্তীতে ওই মাংস ফেলে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি ভ্যানে সবুজ রঙের মাংসভর্তি কড়াই নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বেকারির কর্মচারীদের। উপস্থিত এক কর্মচারী দাবি করেন, রান্নায় কোনো রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি এবং মাংস কড়াইয়ে দেওয়ার পরই অস্বাভাবিকভাবে সবুজ রং বের হতে শুরু করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, একই ফ্রিজের মাংস থেকে তিনি আরও ১০-১২ জন ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন, কিন্তু শুধু মডার্ন বেকারির কর্মচারীরাই এমন অভিযোগ করেছেন। বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো রাসায়নিক বা অন্য কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বেকারির কর্মচারীরা এই দাবি জোরালোভাবে নাকচ করে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং অনেকেই এমন অস্বাভাবিক রং পরিবর্তন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি নিজেও আগে কখনো এমন রঙের মাংস দেখেননি বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, দুপুরে বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে থানায় এসেছিলেন, তবে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে তারা রাজি হননি এবং মাংস দেখিয়ে কিছুক্ষণ পর কড়াই নিয়ে চলে যান।

প্রতিবেদনটি ভালো লেগেছে?

সুপারিশ করুন অথবা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে আমাদের পাশে থাকুন।

মন্তব্য ও আলোচনা ()

আপনার মূল্যবান মতামত দিন
এই প্রতিবেদনে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

আরও পড়ুন