জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকেই ভরাট কাজ শুরু করেন ফরিদ মিয়া। বিগত কয়েক বছর এই কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি তা পুনরায় শুরু হয়েছে। তিতাস নদী এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নৌপথ, যেখান দিয়ে এখনো ভৈরব ও নরসিংদীতে প্রতিদিন একাধিক লঞ্চ, শতাধিক যাত্রীবাহী নৌকা, স্পিডবোট ও পণ্যবাহী কার্গো চলাচল করে, বিশেষত নবীনগর উপজেলা খাদ্য গুদামের ধান, চাল, গম এবং বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল এই পথেই পরিবাহিত হয়। নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং নৌপথ’ প্রকল্পের অধীনে ২৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার নদীপথে খননকাজ চালানো হয়েছিল, অথচ এখন সেখানেই চলছে অবৈধভাবে নদী দখলের মহোৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পলি জমে তিতাস নদী এমনিতেই তার স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি তলানিতে ঠেকায় কৃষকদের সেচকাজে চরম ভোগান্তি হয়। এর ওপর ভরাট অব্যাহত থাকলে শুষ্ক মৌসুমে নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ও তীব্র পানি সংকট দেখা দেবে, যাতে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় জীবিকা সংকটে পড়বে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অবৈধভাবে ভরাট করা বালু অবিলম্বে অপসারণ, নদীর সঠিক সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আহমেদ হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি তার ক্রয়কৃত জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করছেন এবং একসময় এই জায়গা নদীর অংশ থাকলেও বর্তমানে ভূমি অফিসে শ্রেণিবদলের মাধ্যমে নাল হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে নবীনগরের ইউএনও রাকিবুল ইসলাম বলেন, নদী দখল বা ভরাট করার কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং তিতাস নদীর সংশ্লিষ্ট স্থানের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে ও দ্রুতই অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।




মন্তব্য ও আলোচনা (০)